পঁয়ষট্টিতম অধ্যায় অন্ধকার ড্রাগনের উপস্থিতি, আরও এক কন্যার সংযোজন

পেশাদার মৃত walking নয়নবাঘ সম্রাট 1937শব্দ 2026-03-19 08:40:46

সারা পথ নির্বিঘ্নে কেটে গেল, অবশেষে নিজের আবাসিক এলাকায় ফিরে এল। প্রায় রাত তিনটা বাজে, আবাসন চত্বরে। রাতের পালার নিরাপত্তারক্ষীরা তখন বিশ্রামে যাচ্ছিল। সে মেঘজল উৎস আবাসনের ফটকের দিকে তাকাল, ধীরে ধীরে গাড়ি চালিয়ে চেনা পথে ভিতরে প্রবেশ করল।

বাড়ি পৌঁছে, হুয়া থিয়েন বাবাকে জাগিয়ে তুলল। দু’জনে মিলে দুই ঘণ্টা ধরে বিশ টন কুকুর-বিড়ালের খাবার নামিয়ে ফেলল। আগের মা বানানো কুকুরের ঘর, জোরপূর্বক খুলে ফেলা হল। আগের কুকুরের ঘরের উপকরণ দিয়ে গুদাম বানানো হল, সেখানে আনা খাবার সব সযত্নে রাখা হল। উল্টোদিকে ছিল চারশো কোটির কুকুরশালা।

ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল, ভোর চারটা বেজে গিয়েছে। দু’টি ভোরে ওঠা ছোট বিড়াল কাচের নল দিয়ে ওদের দেখছিল, আরও অনেক ক্ষুধার্ত প্রাণী তাকিয়ে ছিল ওদের দিকে।

বিশেষজ্ঞ বাবা-মেয়ে দ্রুত করে একটি করে বস্তা খুলে ফেলল, দু’জনে মিলে সেটা কুকুরশালার মাঝখানে নিয়ে গেল। ঘুম না আসা বড় কুকুর, বড় বিড়াল আর সাদা নেকড়ে খাবারের গন্ধ পেয়ে পাশের ছানাদের জাগিয়ে তুলল।

জাগানো কুকুরগুলোর মধ্যে গ্রাম্য অভ্যাস রয়ে গেছে, তারা চারপাশে তীক্ষ্ণ নজর দিল, কিন্তু দেখল তাদের সঙ্গীরা দৌড়ে গিয়ে খাবার খাচ্ছে। কুকুরের নাক পরিচিত মাংসের গন্ধ পেলেই ছুটে গেল। কিন্তু পেছন থেকে দু’বার ডাক শোনা মাত্র, কুকুর-বিড়ালরা পিছু হটে রাস্তা ছেড়ে দিল, তাদের দাদু-দিদিমা কুকুর-বিড়ালদের আগে খেতে দিল।

থিয়েনের বাবা এই দৃশ্য দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন, ‘‘ভেবেছিলাম, জীবনে আর কোনোদিন কালো আর হলুদকে একসঙ্গে দেখতে পাব না!’’

‘‘ওহ? এখন তো দেখলে, এবার ঘুমোতে যাওয়া উচিত, দেরি করলে সাবধান, মা-মহা বাঘ তোমায় পেটাবে!’’ হুয়া থিয়েন নির্দয় সুরে বলল।

দু’জনে চেনা ভঙ্গিতে দরজা দিয়ে ঢুকে নিজের নিজের ঘরে ঘুমোতে গেল।

সকালে সাতটা বাজার আগেই মেঘজল উৎস আবাসনের ফটকে হাজির দশটি বড় ট্রাক। দ্রুতই হুয়া থিয়েনের বাড়ির দরজায় টোকা পড়ল।

জেগে ওঠা থিয়েনের মা বাবার দিকে তাকালেন, তিনি তখনও ঘুম ভাঙাতে পারছিলেন না।

‘‘আবার রাত জাগা... আসছি! দরজা ধাক্কাবেন না, আসছি!’’

দরজা খুলে দেখলেন, পোষ্যকেন্দ্রের পোশাক পরা ডজনখানেক মানুষ, সবাই প্রায় ছ’ফুটের চেয়ে লম্বা, সুঠাম যুবক, হাতে কালো দস্তানা।

‘‘নমস্কার, আমি পোষ্যকেন্দ্রের ডেলিভারি কর্মী, কাল আপনারা আজীবন সরবরাহ আর অনবরত পোষ্য খাদ্য কিনেছিলেন, আজ প্রথমবার বাড়িতে এলাম, সকালে বিরক্ত করার জন্য দুঃখিত, আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।’’

‘‘ও, কোনো অসুবিধা নেই, আপনারা কুকুরের খাবার এনেছেন, আমায় কী করতে হবে?’’

‘‘আপনাকে কিছু করতে হবে না, শুধু দেখেন। আমরা নিজেরাই নামাবো। প্রথমবার নিয়ে এসেছি, জানি না আপনাদের মাসে কত লাগে, তাই আপাতত একশো টন এনেছি, একটু দেখে নিন।’’

‘‘একশো টন! বেশ, আমি ওকে ডাকছি, ও আমার চেয়ে ভালো জানে।’’

দ্বিতীয় তলায় গিয়ে থিয়েনের বাবাকে টেনে নামালেন, তিনি যেন জীবন সম্পর্কে আগ্রহ হারানো চেহারায়, মা টানতে না পেরে গজগজ করতে লাগলেন, তবে শুনলেন পোষ্যকেন্দ্রের লোক এসেছে, সঙ্গে সঙ্গেই চনমনে হয়ে উঠলেন।

‘‘মাসে একশো টন? পর্যাপ্ত, পর্যাপ্ত, প্রতিদিন একটি করে তিরিশ কেজি, মোটামুটি ঠিকই!’’

থিয়েনের বাবা সাহায্য করতে ছুটলেন, একশো টন মাংস আর নিরামিষ খাবার এক এক করে নামালেন, দুপুর দু’টা অবধি কাজ চলল, তারপর ওরা চলে গেল।

এরই মধ্যে ছেলে জেগে উঠে পনেরো জনের জন্য ভোজ এনে দিল, কেউই খেতে অস্বীকার করল না। খাওয়া শেষে হুয়া থিয়েনও সাহায্য করতে ছুটল, ফলে দু’টার মধ্যেই কাজ শেষ হল।

থিয়েনের বাবা ছানাদের কুকুরের খাবার নিজে খেতে শেখাতে লাগলেন।

এ কুকুরশালা যদিও ভালো, খাবার রাখার জায়গা নিয়ে সমস্যা, এখানে আসলে বাস আর নিরাপত্তার ব্যবস্থাই ছিল, এতো খাবার রাখলে গাদাগাদি হবে কি না, ভাবা হয়নি।

তাতে মা, বাবাকে ঘুমোতে পাঠালেন।

হুয়া থিয়েন একা কুকুরশালায় উঠে গিয়ে নিজের হাতে গোছালো, পরিষ্কার করল, বেরিয়ে এল।

শ’খানেক পোষ্য ঘাসে শুয়ে লেজ নাড়াতে নাড়াতে রোদ পোহাচ্ছিল, মা’র সঙ্গে কিছু কথা বলে, উঠোনের গেট বন্ধ করে দিল।

তারপর গাড়ি চালিয়ে জলনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে গেল।

বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে পাঁচজনের সঙ্গে দেখা হল।

হান ছিয়েনইউন আর হান ছিয়েনইউও ছিল।

‘‘তুমি আজ এসেছো ভালোই হয়েছে, কালই শেষ দিন, সবাই আসনপাথর দিয়ে স্কিল বাড়িয়ে নিই!’’

‘‘হুয়া থিয়েন, তুমি তিন দিন গেমে আসোনি, কাল আরেকটু নিজের স্কিল ঝালিয়ে নাও, পরশু একসাথে চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাওয়া যাবে!’’

সে আর ছোট ইউয়ের পেছনের দুই ভাইবোনকে বলে, তিনজনে বাইরে রাতের খাবার খেতে গেল।

ঘরে পড়ে রইল তিনজন ও এক ড্রাগন।

হান ছিয়েনইউ তিনজনের পালিয়ে যাওয়া দেখে, সেও খেতে যেতে চাইল, কিন্তু ছোট ইউ বলল, ‘‘তুমি আর তোমার দিদি মিলে খাও, আমরা খুব গরিব, তোমার খারাপ করে দিতে পারি।’’

তিনজনের সঙ্গে যেতে না পারার আক্ষেপে ছোট বোন দূর থেকে তাকিয়ে থেকে, আর বিনা কারণে চোখের জল ফেলল।

দরজা জোরে বন্ধ করে, লাফাতে লাফাতে দিদির সঙ্গে দেখা করল।

ভয়ঙ্কর প্রাণী দেখে, ছোট বোন চেঁচিয়ে উঠল, ‘‘দিদি, সাবধান, পেছনে! তুমি দৌড়াও!’’

বিভ্রান্ত ও ভীত হান ছিয়েনইউ ছোট কালো ড্রাগনকে ধীরে ধীরে মুখ খুলে ওর দিকে উড়ে আসতে দেখল।

‘‘হুয়া জিয়েই, ওকে ভয় দেখাস না!’’

দিদি হান ছিয়েনইউন ছোট বোনকে সাদা মুখে দেখে চটপট বলল।

ছোট কালো ড্রাগন রাগান্বিত হয়ে ফিরে এল, এ তো ওর খাবারদাত্রী, ও না থাকলে তো সুস্বাদু মাংস ও পাথরও থাকবে না।

দিদি ও বোন অনেক কথা বলল।

তখনই ছোট বোন বুঝতে পারল, কেন গেমে দিদি তার পোষ্যকে বেশি পাত্তা দেয় না।

নিজের জায়গায় থাকলেও তাই করত, ওকে পাললে বাস্তবে দেখতে পায়, ওদের পাললে তো দেখতে পায় না, বাস্তবের মতো অনুভূতি হয় না।

তারপর ও নিজে চড়ে উড়ে দেখার আনন্দে মেতে উঠল।

বেচারা ঝু ইউঁ, অবহেলিত ইয়ে ইউ, এক সাপ এক পরী চুপচাপ দুই বোনের দ্বারা অবহেলিত হল।

নিজেকে হারিয়ে ফেলা ছোট বোনের দিকে তাকিয়ে দিদি আবার বলল,

‘‘অন্য কাউকে যেন এই কালো ড্রাগনের কথা জানাস না, বুঝেছ?’’

হান ছিয়েনইউ ড্রাগনের পিঠে চেপে প্রাণপণে মাথা নাড়ল।